‘নাজা’র নির্মাতাদের সমর্থনে দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা

Pinky Saha Pinky Saha ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৩৯ PM BST ২৮ বার পঠিত
‘নাজা’র নির্মাতাদের সমর্থনে দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’র নির্মাতাদের সমর্থনে একটি পিটিশনে সই করেছেন দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা। ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানা গেছে।

সমর্থন জানানো নির্মাতাদের তালিকায় রয়েছেন দেশটির চলচ্চিত্র অঙ্গনের বেশ কয়েকজন পরিচিত পরিচালক। তাদের মধ্যে অরি ফোলম্যান ও শ্লোমি এলকাবেটজও রয়েছেন। পিটিশনে বলা হয়েছে, শিল্প ও সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সমাজকে তার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখানো।

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে ‘নাজা’ স্পেশাল জুরি প্রাইজ পাওয়ার পর থেকেই তথ্যচিত্রটির দুই নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জোর সমালোচনা ও হুমকির মুখে পড়েন। তাদের প্রতি সংহতি জানাতেই ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতারা এই পিটিশনে একত্র হয়েছেন।

তবে তথ্যচিত্রটি ঘিরে ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকেও কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশটির সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর ‘নাজা’র নির্মাতাদের কাজকে ‘দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তাদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

অবশ্য ইসরাইলি আইন অনুযায়ী, সংস্কৃতিমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে কারও নাগরিকত্ব বাতিল করা সম্ভব নয়। এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

তথ্যচিত্রে কী তুলে ধরা হয়েছে

‘নাজা’ তথ্যচিত্রটি ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’ ও জেডব্লিউ ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত। এতে ২৪ জন বেনামি ইসরাইলি সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গাজায় নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং সামরিক হামলার বিভিন্ন প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্যচিত্রটির নাম ‘নাজা’ হিব্রু ভাষার একটি শব্দ থেকে নেওয়া, যা কোনো হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানি বা ‘কোলাটারাল ড্যামেজ’ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যচিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও হামলা চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে। নির্মাতাদের দাবি, এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন সেনাসদস্যের ভুলের ফল নয়; বরং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক নীতির সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

তবে তথ্যচিত্রে ওঠা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, বেনামি সূত্রের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার সিদ্ধান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেয় না; সামরিক নীতিমালা ও নিয়ম মেনে মানুষই এসব সিদ্ধান্ত নেয়।

‘নাজা’র নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও রাচেল জোর এর আগে ফিলিস্তিনি নির্মাতাদের সঙ্গে যৌথভাবে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ নির্মাণ করেছিলেন। গাজা যুদ্ধ ও ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে তাদের কাজ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: