নারী কর্মীদের সরানোর ঘটনায় পদ ছাড়ছেন আইফেল টাওয়ারের প্রধান নির্বাহী

Pinky Saha Pinky Saha ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:০১ PM BST ২৯ বার পঠিত
নারী কর্মীদের সরানোর ঘটনায় পদ ছাড়ছেন আইফেল টাওয়ারের প্রধান নির্বাহী

ছবি: সংগৃহীত

হিন্দুধর্মীয় একটি সংগঠনের প্রতিনিধিদলের সফরকে কেন্দ্র করে নারী কর্মীদের সরিয়ে তাঁদের জায়গায় পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পদ ছাড়ছেন আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটির প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক ব্রঁকো রুইভো। ২০১৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা রুইভো চলতি বছরের শেষেই পদ ছাড়বেন।

এসইটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রুইভো বছরের শেষে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা আসে এমন এক ঘটনার পর, যা ফ্রান্সে নারী-পুরুষের সমতা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে।

চলতি মাসের শুরুতে বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার (বিএপিএস) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। সফরটির আয়োজনের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে তাঁদের জায়গায় পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এসইটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে পরে এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সফরটি এমনভাবে আয়োজনের অনুরোধ করা হয়েছিল, যাতে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ‘নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ’ সীমিত থাকে। এসইটি স্বীকার করেছে, এ ধরনের শর্ত মেনে নেওয়া উচিত হয়নি। তদন্তে সফরটি আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘ত্রুটি ও ঘাটতি’ও শনাক্ত করা হয়েছে।

আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের একটি ইউনিয়নের প্রতিনিধি জানান, নারী কর্মীদের তাঁদের কর্মস্থল ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল। এতে তাঁরা অপমানিত বোধ করেন। কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিনিধিদলটি অবস্থানকালে নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যাওয়া বা সেসব এলাকা দিয়ে চলাচল না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে ধর্মঘটও করেন তাঁরা। এর ফলে একপর্যায়ে দর্শনার্থীদের জন্য আইফেল টাওয়ার বন্ধ রাখতে হয়। ঘটনাটি নিয়ে ফ্রান্সের রাজনীতিকেরাও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন।

ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে বলেন, বিদেশি দর্শনার্থীদের দাবির সঙ্গে তাল মেলাতে নারী কর্মীদের একপাশে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা মেনে নেওয়া যায় না। প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ারও ঘটনাটিকে ‘অযৌক্তিক, অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে দুটি পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেন।

এদিকে এসইটির চেয়ারম্যান অ্যারিয়েল ওয়েইল জানিয়েছেন, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেতৃত্বে পরিবর্তন যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য আগামী কয়েক মাস প্রস্তুতির সময় পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: