Photo Collected
প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন ১৮ বছরের আরমান। তবে বাবা-মা তাকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাবাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ভারতের চণ্ডীগড়ে এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন নীতিন সিং নামে এক পুলিশ হেড কনস্টেবল। ঘটনার পর তার ছেলে আরমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) চণ্ডীগড়ের সেক্টর-২২ এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে নীতিন সিংয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। তার মাথায় গুলির আঘাত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। নীতিন চণ্ডীগড় পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাকাউন্টস শাখায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার আগে প্রেমিকাকে বিয়ে করা নিয়ে আরমানের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের তর্ক হয়। আরমান দ্রুত বিয়ে করতে চাইলেও বাবা-মা তাকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেমিকাকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্যও বাবা-মায়ের ওপর চাপ দিচ্ছিল সে।
চণ্ডীগড় পুলিশের কর্মকর্তা সুদেশ কুমারের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রয়োজনে আরমান বাবা-মায়ের কাছে টাকাও দাবি করছিল। পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় সে তার মাকেও গলা চেপে ধরার চেষ্টা করে। পরে তার মা কোনোভাবে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ির ছাদে উঠে প্রতিবেশীদের সহায়তা চান।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ঘটনার পর আরমান বাইরে থেকে কেউ বাড়িতে ঢুকে তার বাবাকে হত্যা করেছে—এমন একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় এবং তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কীভাবে গুলি চালানো হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশ কর্মকর্তা সুদেশ কুমার বলেন, আরমানের মধ্যে ঘটনার জন্য কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। তাকে আদালতে হাজির করে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।