Photo Collected
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার নতুন জেটচালিত ড্রোন ‘গেরান-৫’ নিয়ে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গেরান-৫কে ইরানের নকশাকৃত ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার তৈরি নতুন মডেলটিতে বড় ধরনের যান্ত্রিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে আগের পিস্টন ইঞ্জিন ও প্রপেলারের পরিবর্তে এতে টার্বোজেট ইঞ্জিন ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, নতুন ইঞ্জিনের কারণে গেরান-৫ আগের প্রজন্মের ড্রোনের তুলনায় বেশি গতিতে উড়তে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এবং উড্ডয়ন উচ্চতা ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য পাল্লা নিয়েও বিভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়।
ড্রোনটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে উড্ডয়নরত অবস্থায় এর গতিপথ ও উচ্চতা পরিবর্তনের সক্ষমতার কথা বলা হচ্ছে। ফলে প্রচলিত স্বল্পমূল্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এ ধরনের দ্রুতগতির ড্রোন মোকাবিলা করা কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।
যুদ্ধের শুরুর দিকে ধীরগতির প্রপেলারচালিত ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন মোবাইল ফায়ারিং ইউনিট, ভারী মেশিনগান এবং তুলনামূলক কম খরচের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ব্যবহার করেছে। কিন্তু দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোনের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের গতি গেরান-৫-এর তুলনায় কম হওয়ায় এগুলো ঠেকাতে ইউক্রেনকে অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতি ইউক্রেনের জন্য সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াতে পারে। কারণ তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হলে প্রতিরক্ষাকারী পক্ষের অস্ত্রভান্ডারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
একই সঙ্গে ব্যাপক সংখ্যায় ড্রোন ব্যবহার করাও রাশিয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠানো হলে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে একই সময়ে অনেকগুলো লক্ষ্য শনাক্ত ও প্রতিহত করতে হয়। এতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতা ক্ষয় করা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো, গ্যাস স্থাপনা ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালানো। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী ড্রোন হামলা সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক জনগণের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
গেরান-৫ মোকাবিলায় ইউক্রেন ও তাদের পশ্চিমা অংশীদাররা দ্রুতগতির ইন্টারসেপ্টরসহ নতুন ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুধু আকাশে ড্রোন ধ্বংসের পাশাপাশি এর উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং উৎক্ষেপণস্থল শনাক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
গেরান-৫-এর ব্যবহার ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতের আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে তৈরি দ্রুতগতির দূরপাল্লার ড্রোনের বিপরীতে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার কতটা টেকসই—সেটিই এখন সামরিক বিশ্লেষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।