রিয়াদমুখী হুতিদের দুই ড্রোন ভূপাতিত, সৌদির পাশে মিত্ররা

Pinky Saha Pinky Saha ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ PM BST ২৭ বার পঠিত
রিয়াদমুখী হুতিদের দুই ড্রোন ভূপাতিত, সৌদির পাশে মিত্ররা

Photo Collected

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির নেতৃত্বাধীন জোট। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি জোট।

শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, হুতিরা রিয়াদ এলাকার দিকে দুটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করে। খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও একইভাবে প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

খামিস মুশাইত সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। সেখানে দেশটির একটি বিমানঘাঁটি রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শহরটি ও আশপাশের এলাকায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর এসেছে।

হামলা ঘিরে বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর সৌদির আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান এলাকায় হুতিদের হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হন, যাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন। পরে ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বরের হামলায় আরও ১৩ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইয়েমেনের ভেতরেও সংঘাত তীব্র হয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া লড়াই দেশটির দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

হুতিদের সামরিক তৎপরতার মধ্যে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ওপর হুমকি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

সৌদির পাশে তুরস্ক-পাকিস্তান

হুতিদের হামলা বাড়ার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে তিন দেশের সামরিক প্রধানেরা শুক্রবার রিয়াদে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গোয়েন্দা সমন্বয় এবং সামরিক সক্ষমতা আরও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের প্রয়োজন হলে বিশেষ করে কারিগরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আঙ্কারার আপত্তি নেই।

ইয়ানবু রক্ষায় ফ্রান্সের সামরিক সহায়তা

এদিকে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর ইয়ানবু রক্ষায় ফ্রান্স সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, বন্দরটির নিরাপত্তায় সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হবে।

মাখোঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সামরিক উপস্থিতির উদ্দেশ্য সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করা।

হুতিদের হামলা, সৌদি নেতৃত্বাধীন পাল্টা সামরিক তৎপরতা এবং মিত্র দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার কারণে ইয়েমেনের সংঘাত এখন আরও বড় আঞ্চলিক উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘও সতর্ক করেছে, সামরিক সংঘাতের এই বিস্তার ইয়েমেনের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও মানবিক পরিস্থিতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: