ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দেওয়া বক্তব্যের জবাব দিয়েছে ভারত। শুক্রবার নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে শাহবাজের বক্তব্যের পর শনিবার ‘রাইট টু রিপ্লাই’ বা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারতের জাতিসংঘ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরার পাশাপাশি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের সামরিক সংঘাতের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের’ প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়েও ভারতের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।
এর জবাবে পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, গত বছর ভারত দেখিয়েছে সন্ত্রাসীদের পালিয়ে বা লুকিয়ে থাকার সুযোগ থাকবে না এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে। তাঁর দাবি, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদের অব্যাহত সমর্থনের পরিণতি দেশটিকে ভোগ করতে হবে।
পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক অবস্থানের সমালোচনা করতে গিয়ে গেহলট ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গও টানেন। তিনি বলেন, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী পাকিস্তানে বসবাস করতেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লাদেন পাকিস্তানের সামরিক একাডেমির কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন।
কাশ্মীর প্রসঙ্গেও দুই দেশের অবস্থান আবারও সামনে আসে। শাহবাজ শরিফ দক্ষিণ এশিয়ায় ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে কাশ্মীর সমস্যার ‘ন্যায়সংগত ও ন্যায্য’ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অন্যদিকে গেহলট জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তোলেন।
ভারতীয় প্রতিনিধি পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে শাহবাজ শরিফের বক্তব্যেরও জবাব দেন গেহলট। পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আচরণ এবং দেশটির ধর্ম অবমাননাবিরোধী আইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি পাকিস্তানের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়েও জাতিসংঘে দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে পাকিস্তানের পানির অধিকার নিয়ে সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তানের পানির অংশ বন্ধ, বাধাগ্রস্ত বা অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ইসলামাবাদ যুদ্ধের কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে।
অন্যদিকে ভারত আগে জানিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদসহ সন্ত্রাসবাদের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
জাতিসংঘে বক্তব্যের পাল্টা জবাবে গেহলট আরও বলেন, কোনো বক্তব্য বারবার পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্যে পরিণত হয় না। ভারতের দাবি, পাকিস্তানের বক্তব্যের পরিবর্তে দেশটির নীতি ও কর্মকাণ্ডকে বাস্তবতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।