সৌদিতে দুর্লভ খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সন্ধান, বাড়ছে পারমাণবিক সম্ভাবনা

Pinky Saha Pinky Saha ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ AM BST ২৫ বার পঠিত
সৌদিতে দুর্লভ খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সন্ধান, বাড়ছে পারমাণবিক সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের জাবাল সাঈদ এলাকায় ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও খনিজ অনুসন্ধান চালিয়ে ভারী দুর্লভ খনিজ উপাদান এবং আশাব্যঞ্জক ঘনত্বের ইউরেনিয়ামের সন্ধান মিলেছে বলে আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার দেশটির খনিজ সম্পদ আহরণ এবং বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জাবাল সাঈদ খনিটি জেদ্দা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। অঞ্চলটি আগে থেকেই সমৃদ্ধ খনিজ ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। নতুন অনুসন্ধানে ভারী দুর্লভ খনিজের পাশাপাশি ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় সৌদি আরবের খনিজ খাতে এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাবাল সাঈদ এলাকায় প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী দুর্লভ খনিজ এবং ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা দুর্লভ খনিজের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের সম্ভাব্য মজুতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই খনিজ সম্পদের আনুমানিক মোট মূল্য বর্তমানে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের তুলনায় এর মূল্য প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে। সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আরও দুটি বড় খনিজ অঞ্চল শনাক্ত করেছে, যেগুলোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন বলে জানানো হয়েছে।

খনিজ অনুসন্ধানে এই অগ্রগতির সঙ্গে সৌদি আরবের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা সহযোগিতারও যোগসূত্র রয়েছে। গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি সচিব ক্রিস রাইট ও সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সহায়তায় সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় খনিজ খাতে দুই দেশের সহযোগিতাও বাড়ে। ওই সময় সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি প্রতিষ্ঠান মাআদেন এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান এমপি মেটেরিয়ালসের মধ্যে অংশীদারত্বের চুক্তি হয়। এর আওতায় একটি নতুন খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়, যার ৪৯ শতাংশ অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্লভ খনিজ বর্তমানে বৈশ্বিক শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। বৈদ্যুতিক গাড়ি, উন্নত ইলেকট্রনিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে এসব খনিজের ব্যবহার রয়েছে। ফলে বিপুল মজুতের সন্ধান সৌদি আরবকে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে ইউরেনিয়ামের সম্ভাব্য মজুত সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির পর দেশটির নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌদি আরব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খনিজ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জাবাল সাঈদসহ নতুন নতুন এলাকায় খনিজ অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব সেই বৃহত্তর অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: