ছবি: সংগৃহীত
নিরাপত্তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫৭ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চালানো বিশেষ অভিযানে প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ প্রবাসীকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ হাজার ৫০৪ জন আবাসন আইন, ৩ হাজার ৭৮৩ জন সীমান্ত সুরক্ষা আইন এবং ৩ হাজার ৫০৯ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ধরা পড়েন। এ ছাড়া সৌদি আরবে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় আরও ১ হাজার ২৭৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগই ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে অবৈধভাবে সৌদি আরব থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আরও ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় দেওয়া, লুকিয়ে রাখা বা তাদের কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগে ২১ জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সৌদি প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করা, আশ্রয় দেওয়া বা লুকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী বসবাস ও কাজ করেন। দেশটির আবাসন, শ্রম ও সীমান্তসংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের অংশ হিসেবে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে কর্তৃপক্ষ। এবারের অভিযানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী আটক ও ফেরত পাঠানোর ঘটনায় দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।