ছবি: সংগৃহীত
টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের সব ৫০টি জেলাকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রায় টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, পূর্ণ হয়ে গেছে খালগুলোও। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
শনিবার ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ পুরো নগরজুড়ে দুর্যোগ ঘোষণা করে। এর আগে শুক্রবার নং চক, সুয়ান লুয়াং ও খান না ইয়াও—এই তিনটি জেলা দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করা হয়েছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পরে রাজধানীর সব ৫০টি জেলাকে এর আওতায় আনা হয়। এ ঘোষণার ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় আরও দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নিতে পারবে।
ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাজধানীতে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। শহরের পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিরিক্ত পানিতে বিভিন্ন খাল পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সড়ক ও বসতবাড়ি থেকে পানি দ্রুত সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বন্যার পানি ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা, বাড়ি, দোকান ও রেস্তোরাঁয় ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে যানবাহন পানিতে আটকে পড়েছে এবং অনেক বাসিন্দাকে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে চলাচল করতে দেখা গেছে। নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
খালসংলগ্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চাদচার্ট। পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প চালানো হলেও খালগুলো প্রায় পূর্ণ থাকায় পানি সরানোর গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাড়ি উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
শয্যাশায়ী রোগী এবং জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণে পাম্পিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক বালুর বস্তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বন্যার কারণে রাজধানীর যান চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কগুলোতে ছোট যানবাহন চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গাড়ি নিরাপদে রাখার জন্য ব্যাংককের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ কিছু এমআরটি পার্ক-অ্যান্ড-রাইড এলাকায় বিনা খরচে গাড়ি রাখার সুযোগ দিয়েছে।
এদিকে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংককের বর্তমান পরিস্থিতি ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে। ওই বছর থাইল্যান্ডজুড়ে বড় ধরনের বন্যায় ৫০০-এর বেশি মানুষ মারা যান এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতির ক্ষয়ক্ষতি এখনো ২০১১ সালের পর্যায়ে পৌঁছেছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।