তিন আইন নিয়ে এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ, ‘মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে’

Pinky Saha Pinky Saha ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ PM BST ২৫ বার পঠিত
তিন আইন নিয়ে এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ, ‘মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে’

ছবি: সংগৃহীত

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া তিনটি আইন বাংলাদেশের মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির মতে, নতুন আইনগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া মানবাধিকার সুরক্ষার কয়েকটি সংস্কারকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) বিল ও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত বিল পাস হয়। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে এনএইচআরসিকে তুলনামূলক বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। নতুন আইনে সেই সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, নতুন আইনে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছ থেকেই প্রতিবেদন চাইতে হবে। সংস্থাটি জবাব না দিলে বা প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে এনএইচআরসি নিজে তদন্ত করতে পারবে—এমন একটি বিধান থাকলেও কমিশনের নিয়োগ, বাজেট ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত নতুন আইনেও পরিবর্তন এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা এনএইচআরসিকে দেওয়া হলেও নতুন আইনে তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আটককেন্দ্র ও সন্দেহভাজন গোপন আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতাও আগের কাঠামোর তুলনায় কমেছে বলে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে।

১০ সেপ্টেম্বর সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল পাস হয়, যার মাধ্যমে র‍্যাবের পরিবর্তে নতুন নামে এসআরবি গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, র‍্যাবের জনবল, ক্ষমতা, সম্পদ ও নথিপত্র নতুন বাহিনীতে হস্তান্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর এসআরবি কার্যক্রম শুরু করে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, অতীতের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে প্রকৃত সংস্কার এবং একটি স্বাধীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। তাঁর দাবি, নতুন আইনগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি ও স্বাধীন নজরদারির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

সংস্থাটি এসআরবির জন্য মানবাধিকার যাচাই, স্বাধীন নজরদারি, গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং র‍্যাবের পুরোনো নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জবাবদিহির ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত নতুন বাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: