তিয়াংগংয়ে প্রথম মহাকাশচারী পাঠানোর প্রস্তুতি, দুই পাইলটকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে পাকিস্তান

Pinky Saha Pinky Saha ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৫৮ PM BST ৩৬ বার পঠিত
তিয়াংগংয়ে প্রথম মহাকাশচারী পাঠানোর প্রস্তুতি, দুই পাইলটকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে পাকিস্তান

Photo Collected

চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর জন্য প্রথম মহাকাশচারী বাছাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে দেশটির দুই পাইলটকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া হবে পাকিস্তানের প্রথম মহাকাশচারী হিসেবে।

প্রশিক্ষণে মহাকাশযাত্রার সময় শরীরে অতিরিক্ত চাপ সামলানো, ওজনহীন অবস্থায় কাজ করা এবং মহাকাশযান পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে তাদের।

এই অভিযান সফল হলে পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মহাকাশচারী মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে মহাকাশ সহযোগিতাও আরও জোরদার হবে।

দুই পাইলটের মধ্যে একজন যাবেন মহাকাশে

পাকিস্তানের মহাকাশ সংস্থা সুপারকোর কর্মকর্তা আমের গিলানি জানিয়েছেন, পাইলট জিশান আলী ও খুররাম দাউদকে এই অভিযানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। তারা চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত চায়না অ্যাস্ট্রোনট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে কয়েক মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

২০১৯ সালে পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে এই মহাকাশ অভিযান নিয়ে কাজ শুরু করে। তবে দুই পাইলটের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত মহাকাশে যাবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চীনের পক্ষ থেকে অক্টোবরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

নির্বাচিত পাইলট মহাকাশে যাওয়ার আগে পাকিস্তানে ফিরবেন না। চীনে প্রশিক্ষণ শেষ করে সেখান থেকেই মহাকাশযাত্রা করবেন তিনি। মহাকাশ থেকে ফেরার পর কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

চলছে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ

দুই পাইলটকে চীনে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনা ভাষা শেখা, মহাকাশযান পরিচালনা, ওজনহীন অবস্থায় কাজ করা এবং মহাকাশযাত্রার সময় শরীরের ওপর তৈরি হওয়া চাপ সামলানোর কৌশল।

প্রায় ২০ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে জিশান আলী ও খুররাম দাউদকে বাছাই করা হয়েছে। তাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক প্রস্তুতি এবং উচ্চমাত্রার চাপ সহ্য করার ক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সুপারকোর কর্মকর্তা উজাইর আনসারী জানিয়েছেন, উচ্চগতির বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা থাকায় এই দুই পাইলটকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চীনের মহাকাশ সংস্থা কোনো মন্তব্য করেনি।

মহাকাশে গিয়ে গবেষণা করবেন পাকিস্তানি মহাকাশচারী

মহাকাশে যাওয়া পাকিস্তানি পাইলটের মূল দায়িত্ব হবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করা। তাকে ‘পেলোড স্পেশালিস্ট’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। অর্থাৎ, মহাকাশযান পরিচালনার পরিবর্তে তিনি মহাকাশে পাকিস্তানের বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষা চালাবেন।

সুপারকোর কর্মকর্তা আমের গিলানি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০০টির বেশি গবেষণা প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছিল। সেখান থেকে চীনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চারটি গবেষণা বেছে নিয়েছে।

গবেষণাগুলোর মূল বিষয় জীবপ্রযুক্তি। ভবিষ্যতে এসব গবেষণা খাদ্যসংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যা মোকাবেলায় কাজে লাগতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসব গবেষণার প্রাথমিক পরীক্ষা পাকিস্তানের সুপারকোর ল্যাবে করা হয়েছে। পরে চীনা প্রকৌশলীরা সেগুলো পরীক্ষা করে অনুমোদন দেন। ফলে পাকিস্তানে তৈরি এসব গবেষণা মহাকাশে পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছে।

তিয়াংগংয়ে চলছে নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণা

চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে এরই মধ্যে ১৮০টির বেশি গবেষণা হয়েছে। এসব গবেষণা থেকে ৫০০টির বেশি গবেষণাপত্র ও ১৫০টি পেটেন্ট তৈরি হয়েছে।

তিয়াংগংয়ের তিনটি প্রধান অংশ হলো তিয়ানহে, ওয়েনতিয়ান ও মেংতিয়ান। তিনটি অংশের মোট ওজন প্রায় ৭৭ টন।

বর্তমানে এই মহাকাশ স্টেশনে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, তরল পদার্থ, দহন ও বিকিরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা চলছে।

এর পাশাপাশি চীনের সহায়তায় পাকিস্তানের কয়েকটি স্যাটেলাইটও মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। ২০২৮ সালের দিকে চীনের চ্যাং’ই-৮ চন্দ্রাভিযানে পাকিস্তানের একটি রোভার পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: