যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের

Pinky Saha Pinky Saha ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ AM BST ২৩ বার পঠিত
যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের

Photo Collected

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সর্বাত্মক যুদ্ধ সাত মাসে গড়িয়েছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের মধ্যে কয়েক দফা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। সোমবার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ে। ওই সময় ইরানের পক্ষ থেকে সাত দিনের একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবটির একটি সংশোধিত রূপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে ইরানের মূল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকদের আরও আলোচনায় বসার প্রত্যাশার কথাও বলেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে এই যুদ্ধ শুরু হয়। সাত মাসের সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। পাশাপাশি তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।

এর আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এপ্রিল ও জুনে দুই দফা যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষ সম্মত হলেও সেগুলো স্থায়ী হয়নি। ফলে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত থামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় আছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর শর্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের অবস্থান জানতে চায় তেহরান। আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

ইরানের প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে ইরান ও লেবাননে সংঘাত বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি রয়েছে। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

তবে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনো পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে আরাগচি বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি ইরানকে জানায়নি। তাই ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারাও সোমবার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন বলে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এসব আলোচনার বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি। ফলে নতুন কোনো যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি; বরং সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে আরও আলোচনার সম্ভাবনাই সামনে রয়েছে।

আরাগচি এর আগে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার যেকোনো পদক্ষেপ ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও বলেছেন, চলমান অচলাবস্থা দূর করতে হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে ইরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পাশাপাশি আরও তীব্র যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: